পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে তাই না? এক ছোটোভাই বললেন, কিছু বলতে এটা নিয়ে। ভাই আমি মোটিভেশন দিতে পারি না। যারা হেল্প চায় হেল্প করি, নিজের মতো আছি, থাকবো ভাই! কোনো সেলিব্রেটিও না আমি!

কিন্তু যারা বলছেন যে, রেজাল্ট কাজে লাগবে না বা রেজাল্ট ডাজেন্ট ম্যাটার। তারা একপক্ষ থেকে ভেবে বলছেন এটা।

রেজাল্ট কাজে লাগে। অবশ্যই লাগে। রেজাল্ট ভালো না হলে ভার্সিটিতে চান্স পাবেন না, রেজাল্ট ভালো না হলে চাকরি পাবেন না…! আর কি কি পাবেন না? আর কি? আমি খুঁজে যাচ্ছি। আপনারাও সাহায্য করুন প্লিজ। রেজাল্ট ভালো নাহলে আর কি হবে না?!

পেয়েছেন খুঁজে? পাচ্ছেন না? আচ্ছা অপেক্ষা করুন।

এবার চলুন দেখে আসি যে, রেজাল্ট ভালো না হলে কি কি হবে!

রেজাল্ট এবং কয়েকটা মার্ক আপনার জীবন গড়তে পারবে না কোনোদিনও। হাজার হাজার মানুষ, হাজার হাজার ব্যক্তি আছেন যারা ভালো রেজাল্ট করে জবস বিডিতে টিউশনি খুঁজছেন কিংবা তারা সেই ব্যক্তির কোম্পানিতে চাকরি করছেন যেই ব্যক্তি কি না তাদের ক্লাসের শেষ বেঞ্চের স্টুডেন্ট ছিলো। যার স্কুল কলেজে রেজাল্ট আসতো বি/সি কিংবা কোনোরকমে টেনেটুনে এ!

রেজাল্টের পরে যখন রেজাল্ট হাতে নিয়ে আপনি কাঁদছেন তখন আশেপাশে আপনার ফ্রেন্ডরা একসাথে ছবি তুলছে, কারণ তারা ভালো রেজাল্ট করেছে আর আপনি বি পেয়েছেন!
তখন মনে হয় যে, ইশ! কেন যে পড়লাম না আগে? শুধু আমার সাথেই এমন হয় কেন?

একটু পেছনে গেলে এর উত্তর পেয়ে যাবেন। যখন পড়ার সময় ছিলো তখন আপনারা ফেসবুকে ছিলেন। রেজাল্টের আগের দিন মসজিদ মন্দিরে চলে যাবেন কিন্তু এটা ভাবেন না যে, হাত পেতে দিলে আল্লাহ/ভগবান এসে আপনার হাতে ‘এ প্লাস’ ধরিয়ে দেবেন না!

যার হাত নেই সে কেঁদেকুটে হলেও কষ্ট করে ঈশ্বরের কাছে ভালো কিছু চায়। আপনি পরীক্ষার আগের দিন পাবজি নিয়ে বসে থাকবেন আর রাত জেগে একটার পর একটা মেয়ের সাথে গল্পগুজব করবেন, তাহলে রেজাল্ট আপনার খারাপ কেনো হবে না?

কাল রাতে আমাকে কয়েকজন টেক্সট দিয়ে দোয়া চেয়েছেন। কয়েকজন তো বলেছেন যে, বাসা ছেড়ে দেবেন রেজাল্ট খারাপ হলে। এক আপু তো ভয়েই আছে – রেজাল্ট খারাপ হলে উনার বিয়ে দিয়ে দেবে বাসা থেকে। এক পিচ্চি ছেলে বলছে তার নাকি সুইসাইড ছাড়া অন্য উপায় নেই!

আমার উত্তর ছিলো, আপনারা প্লিজ মরে যান। সুইসাইডের বেস্ট কয়েকটা মেথডও দরকার হলে বলে দিবো আপনাদের। আপনারা তো পরীক্ষা দিয়েছেন রেজাল্টের জন্য তাহলে তো এটাই আপনাদের শেষ ভরসা! স্বাভাবিক!

আমার আম্মু আমাকে অলওয়েজ বলে যে, ‘তুই একটুও টেনশন করিস না কেন? একটু টেনশন করলে তোর সমস্যা কই?’
আমি হাসি! কারণ আমি জানি টেনশন করে কিছুই হবে না! কিচ্ছু না! টেনশন এমন একটা অনুভূতি যেটা আপনার ভবিষ্যৎ ভয় থেকে তৈরি হয়। কিন্তু যদি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না-ই করেন তাহলে? টেনশন থাকছে কি?

এখন বলবেন, “ভাই আপনিই তো বলেন, ফিউচার চিন্তা করে চলতে! আপনিই মানা করছেন?”

তাদের বলছি, “জ্বি আমিই মানা করছি। কারণ, আমি জানি যে আপনাদের দ্বারা কিছু হবে না। কারণ আপনারা যেখানে যেটা করা দরকার সেটা করবেন না। যখন দরকার ফিউচার নিয়ে ভাবার তখন ভাববেন না, যখন দরকার নেই তখন ভাববেন! তাহলে?”

একাধিক মেয়ের সাথে কথা বলার সময় ফিউচার ভাবেন? পড়ার সময় ফিউচার ভাবেন? রেজাল্টের পরে কি হবে ভাবেন? স্বপ্ন দেখেন? প্যাশন আছে? ফিউচারের কি কি করবেন সেটার দিকে খেয়াল আছে?

উপরের প্রশ্নগুলো নিজেকে করেন, উত্তর যদি ‘হ্যা’ হয় তাহলে আমি বলছি যে, “ভাই তুমি আর পাঁচটা বছর পরে দেখো তোমার ফিউচার চেঞ্জ হয় নাকি। নাহলে আমার বাসায় এসে আমাকে বলে যেও যে ভাই আপনি বলেছিলেন আমার ফিউচার চেঞ্জ হবে, কিচ্ছু হয় নি!”

আর উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে আপনারা আত্মহত্যা করতে পারেন! আপনাদের বেঁচে থেকেও আসলে লাভ নেই!

আত্মহত্যা করার জন্য যে পরিমাণ সাহস লাগে সেটা যদি জানতেন তাহলে আপনি রেজাল্টের পরের দিনই নিজের প্যাশনকে জীবিত রাখার যুদ্ধে লেগে যেতেন। আমি জানি! না জেনে বলছি না!

লাস্ট শুধু একটা কথা বলবো।
রেজাল্ট দরকার পড়ে। সবক্ষেত্রেই। কিন্তু ভালো রেজাল্টের দরকার নেই। ভালো রেজাল্টের চেয়ে ভালো দক্ষতার দরকার বেশি!

যেদিন এটা বুঝবেন সেদিন আপনার পকেটে কম করে হলেও পাঁচশ টাকা নোট বেশ কয়েকটা থাকবে!

সবাইকে শুভকামনা! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *