সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পাঁচটি সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছেঃ ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, ইউটিউব এবং টিকটক! করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়েছে বৈ কমে নি! স্কুল-কলেজ বন্ধ, ঘরের মধ্যে আইসোলেশনে রয়েছি সবাই আর একইসাথে অলস সময় পড়ে আছে অনেক, অনেকটুকু!

আর এখন সবচেয়ে পারফেক্ট সময় হচ্ছে দুটো কাজ শুরু করার জন্য!

প্রথমটা হচ্ছে, নতুন কোনো স্কিল ডেভেলপ করা এবং দ্বিতীয়টা হচ্ছে, নতুন একটি ব্যবসা শুরু করা!

কাজ শেখার জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট সময় হচ্ছে, এই মহামারীর সময়টা! ঘরবন্দি অবস্থায় খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, প্রার্থনা আর তারপর? বসে বসে বই পড়তে কতক্ষণ ভালো লাগে?! আর তাই, সেই বইগুলোকে ভিডিওরুপ দিয়ে নতুন অনেক সফটওয়্যার বাজারে এসেছে! প্রচুর অর্ডার পড়ছে সেগুলোতে! মাসিক ৭০০ টাকা দিয়ে আনলিমিটেড বইয়ের ভিডিও দেখছে অনেকেই সেসব অ্যাপগুলো থেকে! জোশ না আইডিয়াটা?!

বইয়ের বাজার আর পাঁচ-দশ বছরের মধ্যেই পরিবর্তিত হয়ে ভি-বুকে চলে আসবে! ভি-বুক হচ্ছে, ভিডিও বুক! ভিডিওবুক মানে, সেখানে ১০০ পৃষ্ঠার একটা বই থেকে সেরা সব তথ্য আর পয়েন্ট তুলে ভিডিও তৈরি করে সেটাকে বাজারজাত করা! এখন বর্তমানের এই সময়ে অনেকেই হয়তো এই কথাটা বিশ্বাস করবে না যে, বইয়ের বাজার খুব শীঘ্রই ভিডিও বুকে পরিবর্তিত হয়ে যাবে! আমি নিজেও পাঁচটি টপিক নিয়ে একেবারে লো প্রাইসে ভিডিওবুক নিয়ে আসছি শীঘ্রই!

কিন্তু আমি কিভাবে বলছি? কিছু পরিসংখ্যান দিই!
(১) ২০১৭ সালে ৬৭% কোম্পানি ভিডিওকে মার্কেটিংয়ে ব্যবহার করছিলো, ২০১৮ সালে ৮১% কোম্পানি ভিডিও মার্কেটিং করেছে এবং ২০১৯ সালে ৮৭% কোম্পানি ভিডিও মার্কেটিং করেছে! ২০২০ এর শেষে সেটা ১০০% হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই!
(২) সোশ্যাল মিডিয়াতে সবচেয়ে বেশি যেসব কন্টেন্ট রয়েছে, তার মাঝে সাধারণ পোস্ট হচ্ছে ৯৬% এবং ভিডিও হচ্ছে, ৭৬%!
(৩) শুধু মার্কেটিং নয়, ২০২০ এর শেষে সারা পৃথিবীর ৮২% ইন্টারনেট ইউজার ভিডিওর দিকে ঝুঁকবে!
(৪) প্রত্যেক চারজনের মধ্যে তিনজন ইন্টারনেট ইউজারের মতেই, তারা অন্যান্য কন্টেন্টের চেয়ে ভিডিওতে বেশি কনভিন্সড হয়ে থাকে!

মাথায় ঢুকেছে?

কাগজে লেখা বই অনেক ক্ষেত্রেই আপনাকে শান্তি বা সুখ দিয়ে থাকলেও ভবিষ্যতে সেটার পরিমাণ কমে যাবে! এমনকি ইবুকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে বৈ বাড়ছে না!
মানুষ এখন ভিডিও এবং অডিওর দিকে মনোযোগী হচ্ছে! তাই ভবিষ্যতের কন্টেন্ট কোনটা, এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি নিঃসন্দেহেই বলতে পারেন – ভিডিও এবং অডিও! দুটোই সমান তালে এগুবে!

তাই, ভিডিও এবং অডিওয়ের সাথে যুক্ত কোনো স্কিল ডেভেলপমেন্টে মনোযোগী হতে পারেন! এটা কাজে লাগবে হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিউরিটি দিয়ে বলতে পারি!

যাই হোক, করোনা এপিডেমিকের কারণে বর্তমান সময়টা হোম-বেইজড অনলাইন ব্যবসার জন্য পারফেক্ট একটি সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে! ঘরে বসে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে বর্তমান সময়ের চেয়ে সুইটেবল আর কখনো হবে না!

আপনার হাত খরচেই করা যাবে এমন অনেক ব্যবসা রয়েছে! অল্প পুজিতে করার মতো ব্যবসার অভাব নেই! আপনাকে শুধুমাত্র শুরু করতে হবে!

এখন প্রশ্ন করবেন, “ইকমার্স সাইট ছাড়া কীভাবে সম্ভব? আমি তো আর দারাজের মতো হতে পারবো না!”

ব্রাদার, সিরিয়াসলি? প্রত্যেকটা বড় ব্যবসা শুরু হয়েছে ছোট করেই! একদিন যেটা ছোট থাকে, সেটা একসময় বড় হবেই!
ব্যবসা করার জন্য এখন ইকমার্স সাইটের প্রয়োজন পড়ে না! ৩৫০ কোটি মানুষ পৃথিবীজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ রয়েছে! অর্থাৎ, ৩৫০ কোটি মানুষ আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার! ফেসবুকে বা ইন্সটাগ্রামে একটা পেইজ খুলে সেখানে আপনার পণ্যের সঠিক মার্কেটিং করলে আয় শুরু হতে সময় লাগবে না!

বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকটি বড় বড় ইকমার্স শপই এফকমার্সকেও ব্যবহার করছে! প্রত্যেকেই তাদের ইকমার্সের সাইটের পাশাপাশি ফেসবুকেও তাদের কাস্টোমারদের কাছে পণ্য বিক্রি করছে!

আমি তাই, সেই টার্গেটেই “সোশ্যাল মিডিয়া প্রফেশনাল কোর্স” তৈরি করেছি! যেখানে আপনি ফেসবুক থেকে শুরু করে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যবসা করা, পণ্যের মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সার্ভিসগুলোকে বিক্রি করে আয় করা সম্পর্কে জানতে পারবেন! কোর্সটি এনরোল করতে চাইলে ইনবক্স করতে পারেন!

যাই হোক, করোনায় দুশ্চিন্তা না করে, ঘরে কর্মহীন অবস্থায় বসে না থেকে নিজের ব্যবসা শুরু করার প্ল্যান করে ফেলুন! কিংবা মার্কেটিংয়ের কোর্স অথবা নতুন কোনো স্কিল ডেভেলপ করে ফেলুন!

ভুলে যাবেন না, ব্রেইনকে বসিয়ে রাখলে সবকিছুই বসে যাবে!

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *