আমাদের অর্থনীতি আর ব্যবসার ভবিষ্যৎ কি? করোনাভাইরাসের পর ব্যবসা আর অর্থনীতি জায়গায় থাকবে? নাকি এমন কোনো পরিবর্তন আসবে, যেটা আমাদের পক্ষে মেনে নেয়া কষ্টকর হয়ে যাবে?

ফিউচার স্টাডিস নামে একটা বিষয় আছে, যেখানে ভবিষ্যতের অবস্থাগুলো নিয়ে পড়াশোনা করা হয়। সেখানে একটি টেকনিক আছে, যেটাকে বলে ফোর ফিউচারস! আমি সেই টেকনিকটা নিয়েই কথা বলবো। এই টেকনিক নিয়ে কাজ করার জন্য দুটো ফ্যাক্টরের প্রয়োজন পড়বে, যারা কেমিস্ট্রি বা রসায়ন নিয়ে পড়েছেন তারা ফ্যাক্টরকে মূলত ‘ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে চেনেন।

যাই হোক, এই টেকনিকটা ব্যবসা আর অর্থনীতিতে ব্যবহার করার জন্য আমি দুটো ফ্যাক্টর হিসেবে নিয়েছিঃ ভ্যালু এবং সেন্ট্রালাইজেশন। ভ্যালু বলতে বোঝাচ্ছি, আমাদের অর্থনীতির মূলনীতিটাকে। সেটা হতে পারে, টাকা কিংবা মানুষের জীবন কিংবা কর্মদক্ষতা কিংবা কর্মী; যেকোনো কিছু। আর সেন্ট্রালাইজেশন বলতে বোঝাচ্ছি, আমাদের ব্যবসাজগতে বা আমাদের অর্থনীতিতে যে বা যারা বড় কিংবা ছোট সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাদের ধাপগুলোকে।

আমরা যদি করোনাভাইরাস পরবর্তী সিচুয়েশনকে ধরে নিই, তাহলে চারটা ফিউচার আমরা কল্পনা করতে পারি,
(১) স্টেট ক্যাপিটালিজম
(২) বারবারিজম
(৩) স্টেট সোশ্যালিজম
(৪) মিউচুয়াল এইড

 

স্টেট ক্যাপিটালিজম বর্তমানে আমরা দেখছি ইউরোপ এবং আমেরিকান কান্ট্রিগুলোতে। এই সিচুয়েশনে এইসব দেশগুলো মূলত অল্প সময়ের জন্য তাদের দেশের মানুষের খরচ বহন করবে বা করছে। কিন্তু সেটা যদি বেশি সময় ধরে ঘটে তাহলে এই সিচুয়েশন বহাল নাও থাকতে পারে। এই সিচুয়েশনে যেকোনো ব্যবসাই একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, ঘরে বসে থাকতে পারে। কিন্তু তারপর তাদেরকে হয় ফিজিক্যাল মার্কেটে পা দিতে হবে, না হয় তাদেরকে অনলাইনে আসতে হবে।

 

বারবারিজম হচ্ছে, এমন একটা অবস্থা যেখানে সরকার কিংবা কেউই একজন আরেকজনকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবে না বা আসে না। এই অবস্থাটি এখনো আমরা দেখি নি। কিন্তু যদি করোনাভাইরাস অতিরিক্ত সময় ধরে বহাল থাকে, তাহলে এই অবস্থা আসতেও বেশি দেরী হবে না। এই অবস্থায় যেকোনো ব্যবসাই হুট করে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেটা অনলাইন হোক কিংবা অফলাইন।

 

স্টেট ক্যাপিটালিজমকে আরেক কথায় মনুষ্যত্বও বলা চলে। কারণ, এই অবস্থায় মূলত একটা দেশের মানুষ অর্থনীতিকে বাঁচানোর চেয়ে জীবন বাঁচানোটা বেশি জরুরি বলে মনে করে। যার ফলে মানুষ অর্থনীতির দিকে পা না বাড়িয়ে অর্থনীতি যারা সংরক্ষণ করে, তাদের বাঁচানোর দিকে এগিয়ে যায়। যার ফলে, সর্বোপরি অর্থনীতিই বেঁচে থাকে। এই অবস্থায় একটি ব্যবসা বিশেষ কিছু পণ্য নিয়ে বেশ লম্বা সময়ের জন্য টিকে থাকতে পারে। সেটা হতে পারে, আমাদের মৌলিক চাহিদা কিংবা খুব অল্প পরিমাণ শৌখিন চাহিদা।

 

মিউচুয়াল এইড হচ্ছে, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা। এই সিচুয়েশনে মূলত সরকার যতটা না এগিয়ে আসে মানুষের সাহায্যে, তার চেয়ে অন্যান্য ছোটবড় সোশ্যাল অর্গানাইজেশন কিংবা প্রত্যেকটা সিঙ্গেল মানুষ আরেকজনকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। এই অবস্থাতেও ব্যবসা মূলত নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য টিকে থাকে।

মূল কথা হচ্ছে, ব্যবসা করবেন খুব ভালো কথা। কিন্তু মৌলিক চাহিদাগুলোকে নিয়ে ব্যবসা করতে পারলে আপনাকে যেকোনো মূহূর্তেই প্রয়োজন পড়তে পারে। কিন্তু যদি মৌলিক চাহিদাগুলো নিয়ে ব্যবসা করতে না পারেন, তাহলে মৌলিক চাহিদাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে যাদের বা যেসব জিনিসের প্রয়োজন হয়; সেগুলো নিয়ে ব্যবসা করুন।

1 Comment

  1. very well weitten… 3rd point should be state socialism instead of state capitalism,……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *